দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা, টেসলা ও বোয়িংয়ের মতো ১৮টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রযুক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালাবে। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, আজ বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে এই হামলা শুরু হবে। অভিযোগ, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে’ এই কোম্পানিগুলো সরাসরি সম্পৃক্ত।
বিবৃতি অনুযায়ী, তেহরান সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টা) থেকে এই অভিযান শুরু হবে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ইউনিট ধ্বংস করা হবে।
তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- অ্যাপল, মেটা, গুগল, মাইক্রোসফট, ইনটেল, আইবিএম, ডেল, টেসলা, এনভিডিয়া, বোয়িং, এইচপি, সিসকো, ওরাকল, জেপি মর্গান ও জি-৪২।
আইআরজিসি এই কোম্পানিগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের কর্মচারীদের অবিলম্বে কর্মস্থল ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন।
পরবর্তীতে প্রভাবশালী নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিসহ আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারান। আইআরজিসির অভিযোগ, এই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোই মূলত ইরানি নেতাদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাদের হত্যার নীলকশা তৈরিতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
এমন এক সময়ে এই হুমকি এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতার কথা বলছেন, আবার অন্যদিকে ইরানবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার হুমকি দিচ্ছেন।
আইআরজিসির এই আল্টিমেটাম মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ ও বৈশ্বিক রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক খাতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
কে